Tuesday, November 6, 2012

ইটখোলা-বাহিত আগর-সুভাষ




সম্মোহিতের মতো খুঁজি আমি দিনের তারাকে
বুঝি না রোজই কেন স্বপ্নভঙ্গ হয়
ভালো লাগায় হতাশা আর বিষাদকে মনে হয়
পরম আরাধ্য, চরম পুলকময়।

থাকো তুমি সাথে, প্রভাতে বা রাতে
তুমি আমার আর কিছু চাই না তাতে
তুমি আছো এ বিশ্বাসে শক্তি আসে নিঃশ্বাসে
সাগর সমুদ্র পর্বত প্রণালী মাড়িয়ে যাই হাত রেখে হাতে।

ভালো লাগে বৃষ্টি-বিধৌত শরতের বাতাস
কাশবনে-ঢাকা মেঘলা আকাশ
তোমার সামনে ইটখোলা-বাহিত বাতাসও
যেন ছড়ায় আগর-সুভাষ।

Monday, November 5, 2012

লেখার কৌশল




ভালো লেখার তিনটি গোপন রহস্য আছে, তুমি তা জানো? এক অধ্যাপক জিজ্ঞেস করলেন তার ছাত্রকে। ছাত্র তো নির্বাক। ভাবছে স্যারের মনের কথা বলার জন্যই ভূমিকা করছেন। তাই ছাত্র অপেক্ষার দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে থাকলো স্যারের দিকে। শেষে জিজ্ঞেসই করতে হলো, স্যার আপনি কি তা জানেন? অন্য দিকে উদাসীন দৃষ্টি দিয়ে স্যার বললেন, নাহ, আমিও জানি না।

কৌতুকটি সমারসেট মমের মজার কথাটিকে স্মরণ করিয়ে দেয়। তিনি বলেছিলেন, উপন্যাস লেখার তিনটি কৌশল আছে। দুর্ভাগ্যবশত কেউই তা জানে না! এই হলো ভালো লেখার রহস্য; যা কেউ জানে না। তবে আর কৌশল নিয়ে কেন এতো মাতামাতি? আমি ভাবি।

লেখা নিয়ে খ্যাতিমান লেখকদের বৈচিত্রময় মনোভাব আমাকে আকৃষ্ট করেছে এবং চিন্তিতও করেছে। ওল্ড ম্যান এন্ড দ্য সি-খ্যাত ঔপন্যাসিক হেমিংওয়ের ভাষ্যমতো, লেখক হবার জন্য লেখার কোন প্রয়োজন নেই। টাইপরাইটারের সামনে গিয়ে রক্তক্ষরণ করলেই তা হয়ে যাবে লেখা। লেখক হতে হলে ভাষাজ্ঞানের চেয়েও দরকারি বিষয় হলো একটি বিদগ্ধ হৃদয়।

লেখতে লেখতে শুধু লেখক হওয়াই নয়, আবিষ্কারও করা যায়। বেকনের ভাষায়, পড়া মানুষকে পরিপূর্ণ করে, সম্মেলন মানুষকে প্রস্তুত করে আর লেখায় মানুষকে শুদ্ধ করে। কীভাবে একটি কবিতা শেষ হবে এই ভেবে রবার্ট ফ্রস্ট কখনো কবিতা লিখতে শুরু করেন নি। লেখতে লেখতে তিনি আবিষ্কার করেছিলেন নিজেকে।

কিন্তু কী লিখবো? আমার ছাত্রজীবনে এ প্রশ্নের উত্তরে আমার প্রিয় শিক্ষক বলেছিলেন, “কিছু যে লেখতে পারছো না, তা-ই লেখো।” আমি হাহাহা করে ওড়িয়ে দিয়েছিলাম। “লেখা বন্ধ করলেন তো লেখকের তালিকা থেকে বাদ পড়লেন (রে ব্যাডবেরি)।” কে শুনে কার কথা: সব রচনা চিঠি আর প্যারাগ্রাফ মুখস্ত করে ফেলেছি।

সকলেই কিন্তু নজরুল জীবনানন্দ নন, কেউ কেউ মৃত্যুর পূর্বেও লেখক হয়ে বিদায় নেন, আর তা হয় কালোত্তীর্ণ। আপনার জীবনের গন্তব্য কী? এরকম প্রশ্নের জবাবে সদ্য অবসরপ্রাপ্ত এক সফল পাবলিক সার্ভেন্ট (বাংলায় সরকারি কর্মকর্তা) বলেছিলেন, “আমি এখন লেখালেখিতেই জীবন শেষ করতে চাই।” পাঠক থাকুক আর না-ই থাকুক, হিসেব করলে দেখবো যে, আমরা অনেকেই লেখক। হয়তো পাঠক ভিন্নতর হতে পারে; হয়তো গল্প উপন্যাস কবিতা পত্রিকা আর প্রবন্ধের পাঠক যা পড়েন, তা সকলে লেখেন না।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও এককালের পত্রিকাকর্মী স্যার উইনস্টন চার্চিল বলেছিলেন: রাজনীতি বা রাজনীতিবিদ নিয়ে আমি আর কিছুই করছি না। এই যুদ্ধ শেষ হলে আমি সম্পূর্ণভাবে লেখা আর আঁকায় মনোনিবেশ করতে চাই। অতএব চার্চিলের মতে জীবনের গন্তব্য হলো লেখক হওয়া।
সকলেই লেখেন না, কেউ কেউ শুধু বলেই যান, আর অন্যে তা লেখে হয়ে যায় লেখক। কারও মুখের কথাই লেখা হয়ে যায় যদি তাতে প্রাণ থাকে। “নেপোলিয়নের প্রতিটি কথা এবং তার লেখার প্রতিটি লাইন পড়ার মতো, কারণ তাতে আছে ফ্রান্সের প্রাণ।” বলেছিলেন অ্যামেরিকান প্রবন্ধকার র‌্যাল্ফ ওয়ালডো ইমারসন। এমন ব্যক্তিদেরকে মনে নিয়েই হয়তো বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন বলেছিলেন, “হয় পড়ার মতো কিছু লেখো, নয়তো লেখার মতো কিছু করো।

Friday, November 2, 2012

তানিয়াদের সকাল

স্বামীকে বিদায় জানিয়ে দরজাটি বন্ধ করার পর মুহূর্তেই অভিমান আর বিষণ্নতায় পেয়ে বসলো তানিয়াকে তানিয়া আহমেদ সিনিয়র সিস্টেম এনালিস্ট স্বামী পারভেজ আহমেদ ব্যাংকার একমাত্র সন্তানকে নিয়ে নিউক্লিয়াস পরিবার - সঙ্গে ভাইবোন মাবাবা কেউ নেই সকলেই গ্রামে বা অন্য শহরে

পৌরফোনে তানিয়ার চাকরির দশ বছর পূর্ণ হলো আজ সহকর্মীরা আজ তাকে নিয়ে কী কী করতো, কে কী ভাষায় অভিনন্দন জানাতো তা- ভাবছেন তানিয়া, আর বাসন মাঝছেন জানালায় আকাশ দেখছেন আনমনে কতকিছুই না মনে পড়ছে তার আজ! পৌরফোনে চাকরিটা হবে যখন বুঝতে পারলেন, তখন থেকেই তিনি বুঝতে পারলেন যে চাকরিটা তার করা হবে না চাকুরির ইন্টারভিউতে নিয়োগকারীই সাধারণত প্রশ্ন করে, শর্ত দেয় - তানিয়ার বেলায় ছিলো তার উল্টো ছুটি হবে কি না, মা হতে পারবেন কিনা, যাতায়াতের জন্য ট্রান্সপোর্ট হবে কি না ইত্যাদি প্রশ্নকারীরা বিস্মিত হলেও উত্তর দিয়ে যাচ্ছিলেন, কারণ তানিয়ার স্পষ্টবাদিতা তাদের পছন্দ হয়েছিলো তারা মজাই পাচ্ছিলেন বেতন ভাতা ইনক্রিমেন্ট প্রমোশন ইত্যাদি বিষয়ে কোন আগ্রহই নেই তানিয়ার তার আগ্রহ ছিলো কাজটি কেমন হবে, সেটা করতে পারবেন কিনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিলো অফিস তার যাতায়াতের ব্যবস্থা করবে কি না খুশিতে কাঁদতেছিলেন তানিয়া ইন্টারভিউ রুমেই কারণ চাকরিটা তার হয়েই গেলো এবং তা তখনকার বাজারে বেশ মোটা-বেতনের চাকরিই বলা যায় স্বামী তো খুশি এবং বিস্মিতও; যেন এই প্রথম পারভেজ বুঝতে পারলেন যে স্ত্রীরা স্বামীর চেয়ে বেশি বেতন পেলে সেটা অস্বাভাবিক কিছু নয় চাকরি করার আনন্দ আর না করতে পারার আশংকায় হাবুডুবু তানিয়া বেতনের পরিমাণ নিয়ে কখনও ভাবেন নি

আজ দশম বছরে তানিয়াকে জানালায় তাকিয়ে কাঁদতে হচ্ছে চাকরিটা আছে বলেই হয়তো তানিয়াকে কাঁদতে হচ্ছে অথচ প্রতিবারই তানিয়া অফিস থেকে একটি লাল চিঠির আশংকা করেন এভাবে কতদিন সে অফিসকে ঠকাবে? এভাবে কতদিন শুনতে হবে মেয়েরা ফাঁকিবাজ, যখনতখন অফিসে অনুপস্থিত থাকে? সিনিয়র সহকর্মীরা তাকে বড্ড ভালোবাসে, তাকে বুঝার চেষ্টা করে এবং সহমর্মীতা দেখায় কিন্তু সমস্যা হচ্ছে সমপর্যায়ের সহকর্মীদের নিয়ে, যাদের নিয়োগ হয়েছে তারই সময়ে, তারা টিজিং করেই যাচ্ছে

অমিতের জন্মের পর নির্ধারিত মাতৃ-ছুটির পরও তানিয়াকে একমাস বেশি ছুটি নিতে হয়েছিলো এক সহকর্মী তো বলেই ফেললো,  “বাব্বা! এতদিন পরও চাকরি থাকে! পরজনমে যেন নারী হয়ে জন্ম নেই, খোদার কাছে আমার এই প্রার্থনা!”

আরেক সহকর্মী তার চিরাচরিত শার্লকহোমস-টাইপের প্রশ্ন নিয়ে সেদিন চায়ের আড্ডাটিকে মাটি করে দিয়েছিলোআচ্ছা, এত অনুপস্থিত থাকার পরও আপনি এবার প্রমোশন পেলেন কী করে? বসও তো আপনাকে নিয়ে কোন কটুকথা বলতে শুনি নি!” তানিয়া এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে চান না ছেলেরা ভালো করলে কোন প্রশ্ন নেই, সেটা স্বাভাবিকভাবে সকলে মেনে নেয়, কিন্তু মেয়েরা কর্মস্থলে সুনাম অর্জন করলে সকলেই সন্দেহের চোখে তাকায় প্রতিষ্ঠানের জন্য এতো পরিশ্রম করেও তাকে নিরন্তর এরকম অনাকাঙ্ক্ষিত প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। 

হঠাৎ অমিতেরআম্মু ডাকে সম্বিৎ ফিরে পেলেন তানিয়া অমিত ঘুম থেকে ওঠেছে বাবার ভক্ত হলেও অমিত আজ মাকে বাসায় পেয়ে বেজায় খুশিজাহানারা খালা আসে নি কেন, আম্মু?” তানিয়া তার কী উত্তর দেবে? জাহানারা আসে বেড়িবাঁধের বস্তি থেকে বিধবা জাহানারা গত দুতিন মাস ধরে তানিয়াদেরকে সাহায্য করছে তার প্রধান কাজ অমিতকে দেখাশুনা করা ঠিক গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলো যে কীভাবে জাহানারা টের পেয়ে যায় সেটা তানিয়া আজও বুঝতে পারেন নি যেদিন তানিয়ার অফিসে থাকার খুবই দরকার, ঠিক সেদিন জাহানারা আসে না!  “আম্মু আম্মু, আবার যদি খালা না আসে তাহলে আব্বুকে বলো আমার সাথে থাকতে তা কী করে হয়! জাহানারা না আসলে তো তানিয়াকেই বাসায় থাকতে হবে এই তো স্বাভাবিক অমিতকে বুকে জড়িয়ে তানিয়া  আরেকটি দিন অফিসের কথা ভুলে যাবার চেষ্টা করেন

Saturday, October 27, 2012

একাত্মতার উৎসব আর উৎসবের একাত্মতা


এবারে পূজা এবং ঈদ একসাথে আসায় বাঙালির সাম্প্রদায়িক রূপটি ভালো করে জানা গেলো। গুটি কয়েক বিছিন্ন ঘটনা আর হাতেগোনা ক’জন প্রতিক্রিয়াশীল ব্যক্তির আচরণ ও মন্তব্যে প্রায়ই নিজেকে নিজের সমাজকে ভুল বুঝি। একবারও বিশ্লেষণ করে দেখি না ভেতরে কী আছে। অবশ্য অনেক সময় পরখ করে দেখার সুযোগও হয় না, তার পূর্বেই আমাদেরকে একটি সিদ্ধান্তে আসতে হয়।
অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সময়ে কোলকাতায় সংঘটিত একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য-প্রণোদিত ঘটনা আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যকে ভেঙ্গে দেয়। ইচ্ছে করলেই আমরা সেই ক্ষত ভুলে যেতে পারতাম কিন্তু ইতিহাস আমাদেরকে তা হতে দেয় নি। আমাদের রাজনৈতিক অভিভাবকরা আমাদেরকে সেরকম ভাবার সুযোগ দেন নি। ভাষা ও সংস্কৃতির ঐক্যবন্ধনকে ভূলুণ্ঠিত করে তারা ভারতবর্ষকে বিভক্ত করেছেন সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে, যা মাত্র তেইশ বছর পর্যন্ত অর্থাৎ একাত্তর সাল পর্যন্ত টিকে ছিলো।
আমরা কি শান্তি বুঝি না? আমরা কি সহাবস্থান বুঝি না? দেশের অধিকাংশ মানুষই কি সম্প্রীতিতে অভ্যস্ত নন? ইতিহাস আমাদেরকে বারবার এই সাক্ষ্য দিয়েছে যে, সাম্প্রদায়িক  সহিংসতা ধর্মের কারণে হয় নি, হয়েছে রাজনৈতিক কারণে। অথচ বারবার উপস্থাপিত হয়েছে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হিসেবে। সেটাকে বড়জোড় সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্ব বলা যায়, কিন্তু কোন অর্থেই তা সাম্প্রদায়িক নয়।
ঈদে পুজোয় ইফতারে বাঙালিকে কি আলাদা করা যায় তাদের সাম্প্রদায়িক নাম দিয়ে? ইফতারের মুহূর্তে কতজন বাঙালিকে ইফতার না করতে দেখা যায়? পুজোর সময়ে ঢাক-ঢোল আর খোল-করতালের শব্দে কার মনে দোলা লাগে না, বলুন তো? ঈদের আনন্দে কোন বাঙালিকে নিরানন্দ বা বিচ্ছিন্ন দেখা যায়? অবশ্য বড়দিন উদযাপনকারীদের সংখ্যা নিতান্তই এক শতাংশের কম বলে তারা আমাদেরই সাথে একাকার হয়ে আছেন।
আমি আমার অনেক অমুসলিম বন্ধুকে সংখ্যাগরিষ্টদের ভাষায় ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলে শুভেচ্ছা জানাতে দেখেছি। আবার অমুসলিম পরিবেশে আমার মুসলিম বন্ধুদেরকে হাতজোর করে নমস্কার জানাতেও দেখেছি।
প্রতিটিবার উৎসব আমাদেরকে এক করে দেয়। প্রতিটি উৎসব আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, ইতিহাস সংস্কৃতি দেশ ও জাতি হিসেবে আমরা সকলেই এক এবং অভিন্ন।  উৎসবপ্রিয় বাঙালি উৎসবের ফুরসৎ পেলেই সকল বিভক্তি ভুলে যায়। ঈদে বলে ঈদ মোবারক আর পুজায় বলে শুভ বিজয়া। কেন দু’একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত নিয়ে নিজের সমাজকে দূষিত করি? উৎসব এসে আমাদেরকে যে ঐক্যের বন্ধনে বেঁধে দিয়ে যায়, চলুন না কেন সেটাকেই সারাটি বছর ধরে রাখি?

Friday, October 26, 2012

নারীর কথা: কেনো আমি একটি কর্মজীবন পাবো না?


আমি অনেকবার ভেবেছি জবটি করবো কি করবো না অগণিত চাকরির প্রস্তাব আমি ফিরিয়ে দিয়েছি বিভিন্ন সামাজিক পারিবারিক যোগাযোগ  সমস্যার কারণে বর্তমান প্রস্তাবটি সব দিক দিয়ে উপযুক্ত মনে হচ্ছে এটি আমার যোগ্যতা ব্যক্তিগত জীবন-দর্শনের সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ সকল বিবেচনায় একটি উপযুক্ত চাকরি হওয়া সত্ত্বেও চাকরিটি আমি করবো কিনা, সে সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না

চাকরি করার পথে অনেকগুলো বাধার মধ্যে বড় দুটি বাধা হলো আমার মা হওয়া এবং আমার স্ত্রী হওয়া আমি মা হতে চলেছি আগামি আট-মাসের মধ্যে প্রথমটি নিয়ে চিন্তিত নই, কারণ যে প্রতিষ্ঠানে যোগ দিবো, সেখানে মাতৃত্বকালীন ছুটি পাওয়া যাবে তারপর একটি কাজের মানুষ যোগাড় করে নেবো দ্বিতীয় বিষয়, আমার স্ত্রী হওয়ার বিষয়টিতে যে কেউ আঁতকে ওঠতে পারেন তবে কি স্ত্রী হওয়া নারীর জন্য অস্বাভাবিক কিছু? না, তা মোটেই নয় আমি মূলত আমার স্বামীর বিষয়টি মনে নিয়েই কথা বলেছি

আমার স্বামীর কথা বলি আমরা ভালোবেসে বিয়ে করেছি তার যে বিষয়টিতে আমি বেশি দুর্বল ছিলাম, তা হলো নারীর প্রতি তার অকৃত্রিম শ্রদ্ধা ভক্তি আমার স্বামী খুব মাতৃভক্ত মানুষ, এখনও বাড়িতে গেলে মায়ের হাতে ভাত খায় নারী ঘর থেকে বের হয়ে কাজ করুক এবং দেশের কর্মশক্তিতে যোগ দিক এরকম মনোভাব সে সবসময়ই প্রকাশ করতো রাস্তা-ঘাটে নারীর চলাচলে সামাজিক বাধা, পাবলিক বাহনে তাদের যাতায়াতের সমস্যা ইত্যাদি বিষয়ে আমার স্বামী সবসময়ই সোচ্চার

এখনও তার মনোভাবের কোন পরিবর্তন দেখি না কিন্তু আমার চাকরি করার বিষয়টি ওঠে আসাতে তাকে একদম নিশ্চুপ এবং নিরাবেগ দেখছি এখন পর্যন্ত হ্যাঁ বা না কিছু পরিষ্কার করে বলছে নাচাকরিটি কি করবো এরকম প্রশ্নের জবাবে তারহ্যাঁ, করো না!” জবাবে আমি ঠিক বুঝতে পারছি না তার মনের কথাটি আসলে কী? এমনও নয় যে আমি তার বিশ্বাস ভঙ্গ করবো, কারণ নিজের সততায় আমার আত্মবিশ্বাস আছে আমার স্বামীরও ওরকম আশঙ্কা আছে বলে মনে করি না

সবমিলিয়ে এক কঠিন সময় অতিক্রম করছি আমি এখন শুধুই চাকরি করবো বলে পড়াশুনা করি নি, কিন্তু শুধুই গৃহিনী হয়ে কিচেন মাস্টার হয়ে জীবন শেষ করবো - এরকম চিন্তাও করি নি অন্যদিকে আমার স্বামীকেও আমি ভালোবাসি এবং আমি চাই সে ভালো থাকুক এবং তার কর্মজীবন গড়ে ওঠুক এপর্যন্ত তার ক্যারিয়ারে বাধা সৃষ্টি করে এরকম কিছুই করি নি,বরং তাকে দিনের কাজের জন্য প্রস্তুত করতে যা-কিছু করণীয় সবই করে যাচ্ছি, যার বিবরণ এখানে শেষ করা যাবে না আমি একজন সফল গৃহিনী থাকতে চাই, তাই বলে কি আমি একটি কর্মজীবন পাবো না?